প্রচ্ছদ > খেলা > ফুটবল

ঘানার অদম্য লড়াই, কলম্বিয়ার স্বপ্ন

article-img

৯০ মিনিটের লড়াই ইতিহাস লেখার মঞ্চ। স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ের উত্তেজনাপূর্ণ শেষ বত্রিশের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দল কলম্বিয়া এবং আফ্রিকার অন্যতম লড়াকু দল ঘানা। একদিকে শিরোপার স্বপ্ন দেখা কলম্বিয়া, অন্যদিকে প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে চলা ঘানার অদম্য বিশ্বাস।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে কলম্বিয়ার সেরা সাফল্য ২০১৪ আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। সেই টুর্নামেন্টে হামেস রদ্রিগেজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে। অন্যদিকে ঘানা আফ্রিকার অন্যতম সফল বিশ্বকাপ দল। ২০১০ সালে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ার খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। উরুগুয়ের বিপক্ষে নাটকীয় সেই ম্যাচ আজও বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। এবার দুই দলই নতুন করে নিজেদের ইতিহাস সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেয়েছে।

গ্রুপ পর্বে দারুণ ফুটবল খেলেছে কলম্বিয়া। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্র নিয়ে সাত পয়েন্ট সংগ্রহ করে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আক্রমণে ধার, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণে স্থিরত নেস্তর লরেনসোর দল ভারসাম্যপূর্ণ। শেষ বত্রিশে উঠতে প্রতিটি ম্যাচেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে তারা।

ঘানার পথ ছিল অনেক বেশি কঠিন। শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে লড়াই করে নকআউট নিশ্চিত করেছে ব্ল্যাক স্টারসরা। তিন ম্যাচে দলটি দেখিয়েছে দুর্দান্ত লড়াকু মানসিকতা। কখনও পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে, কখনও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে ফল আদায় করেছে। সেই মানসিক দৃঢ়তাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

কলম্বিয়ার আক্রমণের অগ্র সেনানী লুইস দিয়াস। গতি, ড্রিবলিং ও গোল করার দক্ষতায় প্রতিপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। জন দুরান ধারাবাহিকভাবে গোল করে আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করেছেন। মাঝমাঠে রিচার্ড রিওস ও জেফারসন লেরমা খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করছেন। রক্ষণে দাভিনসন সানচেস অভিজ্ঞতা দিয়ে দলকে ভরসা দিচ্ছেন, আর গোলবারের নিচে ক্যামিলো ভার্গাস নিরাপদ হাত হয়ে উঠেছেন।

ঘানার শক্তি দলগত ফুটবল। অধিনায়ক জর্ডান আয়ু অভিজ্ঞতা দিয়ে আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মোহাম্মদ কুদুসের গতি ও সৃজনশীলতা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ইনাকি উইলিয়ামস প্রতিআক্রমণে ভয়ংকর, আর মাঝমাঠে মোহাম্মদ কুদুস ও আর্নেস্ট নুয়ামাহ প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে সক্ষম। গোলরক্ষক লরেন্স আতি-জিগি দলের অন্যতম নির্ভরতায় পরিণত হয়েছেন।

ম্যাচের আগে কলম্বিয়া কোচ নেস্তর লরেনসো বলেছেন, ‘নকআউট পর্বে ছোট-বড় দলের কোনো পার্থক্য থাকে না। প্রতিটি ম্যাচই নতুন পরীক্ষা, আর ঘানা এমন একটি দল যারা শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত লড়াই করে।’

ঘানা কোচ অটো আড্ডোও আত্মবিশ্বাসী, ’কলম্বিয়া দুর্দান্ত দল হলেও ঘানার খেলোয়াড়েরা ভয় পায় না। তারা নিজেদের সামর্থ্যে বিশ্বাস করে এবং মাঠে সেই বিশ্বাসেরই প্রমাণ দিতে চায়।’

কৌশলগতভাবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় লড়াই হবে কলম্বিয়ার বলের দখল ও আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষমতার বিপক্ষে ঘানার দ্রুত প্রতিআক্রমণ। কলম্বিয়া শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চাইবে। অন্যদিকে ঘানা অপেক্ষা করবে প্রতিপক্ষের ভুলের, তারপর কুদুস, ইনাকি উইলিয়ামস ও আয়ুকে সামনে রেখে দ্রুত আঘাত হানার চেষ্টা করবে।

কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট এখন মাত্র একটি ম্যাচ দূরে। একদিকে দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দলের স্বপ্ন, অন্যদিকে আফ্রিকার আরেকটি মহাকাব্য রচনার আকাঙ্ক্ষা।